সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, আলীকদম
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকায় সাম্প্রতিক হাম ও রুবেলা পরিস্থিতি মোকাবিলা, চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে আলীকদম সেনা জোন।
রবিবার (১৭ মে ২০২৬) আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
পরিদর্শনের শুরুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোন অধিনায়ককে আলীকদম উপজেলার বর্তমান হাম ও রুবেলা পরিস্থিতি, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম, টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসাসামগ্রীর প্রাপ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
এরপর তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, শিশু ওয়ার্ড, আইসোলেশন ইউনিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জোন অধিনায়ক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে রোগীদের প্রতি আরও মানবিক, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং জরুরি রোগীদের দ্রুত সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দুর্গম পাহাড়ি পথ এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, চিকিৎসা সহায়তা এবং টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর সহায়তা আরও জোরদার করা হবে।”
পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে আলীকদম সেনা জোনের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। স্থানীয় জনগণও দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং রোগ প্রতিরোধে সেনা জোনের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
